আমাদের দেশে শিং মাছ চাষ পদ্ধতি টিপস আলোচনা

নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করে খুব সহজে অল্প জায়গায় অধিক উৎপাদন করা যায়। ছোট পুকুর বা ট্যাঙ্কে অনেক বেশি ঘনত্বের পোনা ছাড়া যায়।সাধারণ চাষের তুলনায় এখানে উৎপাদন অনেক বেশি হয়।


শিং মাছ খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা অনেক রয়েছে।অন্যান্য কার জাতীয় মাছের তুলনায় প্রতি কেজি মাছের দাম অনেক বেশি হওয়ায় এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা।

পেজ সূচীপত্র: আমাদের দেশে শিং মাছ চাষ পদ্ধতি সম্পর্ক

বাড়ির আঙ্গিনায় মাটির হাউসে শিং মাছ চাষ

বাড়ির রাঙিনায় খুব সহজেই মাটির হাউসের শিং মাছ চাষ করা যায়। দুই থেকে তিন ফুট গভীরতার মাটির হাউস তৈরি করা যায় ।সাধারণত চার থেকে পাঁচ মাস মেয়াদ মাটি ভালোভাবে চাষ করে প্রতি শতাংশে ২০ কেজি গোবর বিয়ে ময়ে দিতে হবে ।

প্রতি শতাংশে এক কেজি তুন প্রয়োগ করতে হবে ।মাটির হাউজের পানিতে কচুরিপানা দেওয়া যায় তবে কচুরিপানা খুব বেশি না হওয়াই ভালো। সাপ ও ব্যাংক থেকে রক্ষার জন্য মাটির হাউসের চারপাশের নেট জাল দিয়ে ঘিরে দিতে হবে ।

রোদ কম থাকা শিং মাছের পোনা ছাড়ার জন্য উপযুক্ত সময়।প্রতি শতাংশে এক হাজার থেকে ১৫০০ টি পোনা ছাড়া যায়।শিং মাছ যেহেতু অন্ধকার পছন্দ করে তাই সন্ধ্যার সময় খাবার দেওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত সময় মাছের ওজনের তিন থেকে পাঁচ পার্সেন্ট হারে খাবার দেওয়া ভালো।

শিং মাছের সঠিক পরিচর্যা নেওয়া প্রয়োজন।শিং মাছের সাধারণত ক্ষত রোগ হতে পারে।তাই নিয়মিত চুন ও লবণ ব্যবহার করতে হবে। এতে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব অল্প পুজিতে বাড়ির আঙিনায় মাটির হাউসে এভাবে শিং মাছ চাষ করা যায়।

পুকুরে শিং মাছ চাষ পদ্ধতি

পুকুরে অতি সহজে আধুনিক ও বিজ্ঞানী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষ করা যায়।১০ থেকে ৩০ শতাংশে এবং তিন থেকে চার ফুট গভীরতা রাখা ভালো।এর জন্য প্রথমে পুকুর প্রস্তুত করতে হবে। প্রথমে পুকুর শুকিয়ে ফেলতে হবে। তারপরে কাদা তুলে ফেলতে হবে এবং আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।

উপরে উন্নত পোনা নির্বাচন করতে হবে সুস্থ-সবল রোগমুক্ত পোনা নির্বাচন করতে হবে।প্রতি শতাংশে ১ কেজি চুন এবং ৬ থেকে ১০ কেজি গোবর ব্যবহার করতে হবে।নতুন পুকুরে ২০ কেজি কবর দিতে হবে এছাড়াও চুন দেওয়ার ৫ থেকে ৭ দিন পর দুই থেকে তিন ফুট পরিস্কার পানি দিয়ে পুকুর ভরাট করা প্রয়োজন।

প্রতি শতাংশে ৭০০ থেকে ১০০০ টি পোনা ছাড়তে পারেন।তবে শিং মাছ পুকুরে কোনা ছাড়ার আগে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশ্রিত পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। শিং মাছের জন্য ভাসমান ফিট বা ফিশমিল উপযুক্ত। শিং মাছের খাদ্যের পরিমাণ ওজনের পাঁচ থেকে তিন থেকে পাঁচ শতাংশ হারে দিনে দুইবার খাবার দিন ।


কুকুরের শিং মাছ চাষ করতে হলে ৩০ থেকে ৪০% পানি পরিবর্তন করলে মাছ দ্রুত বাড়ে এবং মাছের রোগ কম হয়।শিং মাছের যদি ক্ষত রোগ বা ভাঙ্গা আছে আক্রমণ করে তাহলে এর জন্য মাসে একবার অনুমোদিত মেডিসিন ব্যবহার করতে হবে।শিং মাছের সঠিকভাবে যত্ন নিলে সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় মাস পর বিক্রি করার জন্য উপযুক্ত হয় ।

১০ শতাংশ জমিতে ৩০ মন শিং মাছ চাষ

10 শতাংশ জমিতে ত্রিশমন শিং মাছ চাষ করা একটি আধুনিক চাষ পদ্ধতি।ব্যবস্থাপনা ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এভাবে অধিক পরিমাণ শিং মাছ চাষ করা সম্ভব।শিং মাছের ভালো ফলনের জন্য অবশ্যই উন্নত জাতের সুস্থ সবল রোগমুক্ত কোন নির্বাচন করতে হবে।তাহলে প্রতি শতাংশে ৫০০০ থেকে ৮ হাজার পিস পোনা ছাড়া সম্ভব।

মাছের ওজন অনুযায়ী উন্নত দানাদার খাবার নিয়মিত প্রদান করতে হবে।খাবারের খরচ উৎপাদনের প্রায় 70% পর্যন্ত হতে পারে।মাছের ওজন অনুযায়ী প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার খাবার বা ফিশমিল দিতে হবে।পানির অক্সিজেন লেভেল ঠিক রাখা প্রয়োজন প্রয়োজনে অ্যারেশন ব্যবহার করতে পারেন। ঘন চাষে পানি দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


অনেকেই দশ শতাংশে অনেক বেশি শিং মাছ উৎপাদন করেছেন।অনেকেই ১০% ১০০ মনের বেশি শিং মাছ উৎপাদন করে সাফল্য অর্জন করেছেন।পুকুরে জাল ফেলার আগে জালটি পটাশ মিশ্রিত পানি বা জীবাণুনাশক দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে

শিং মাছ চাষে একক চাষ পদ্ধতি


শিং মাছ চাষে এক চাষ পদ্ধতি হলো একটি পুকুরে শুধুমাত্র শিং মাছ চাষ করা যা অত্যন্ত লাভজনক এতে শিং চাষ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ হয় এবং মাছ দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে আসার জন্য প্রথমে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের পুকুরে শিং মাছের চাষের জন্য বেঁধে নিতে হবে পুকুরের গভীরতা ১ থেকে দেড় মিটার তিন থেকে পাঁচ ফুট হওয়া উচিত


পুকুর প্রথমে শুকিয়ে নিতে হবে তার জন্য প্রথমে কুকুর সেত দিতে হবে এরপর কাদা সরিয়ে ফেলতে হবে এরপর প্রতি শতাংশে এক কেজি চুন দিতে হবে যদি সম্ভব হয় তাহলে এক থেকে দুই কেজি জিও লাইট প্রয়োগ করতে হবে চুন দেওয়ার ৫ থেকে ৬ দিন পর সার প্রয়োগ করতে হবে

পাপ থেকে সাত কেজি গোবর ১০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৫০ গ্রাম টিএসপি সার প্রয়োগ করতে হবে ছাড় দেওয়ার চার থেকে পাঁচ দিন পর পানি হালকা সবুজ বা বাদামি হলে দুই থেকে তিন ইঞ্চি আকারের সুস্থ সবল রোগ মুক্তপনা মজুদ করতে হবে শিং মাছের ইয়াকুত চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে সাড়ে 700 থেকে 1000 টি পোনা মজুদ করা যায়


প্রথম ১০ দিন দেহের ওজনের ২০ পার্সেন্ট খাবার দিতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে পাঁচ থেকে আট পার্সেন্ট হারে খাবার দিতে হবে যা মাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে কমিয়ে দিতে হবে এবং ৩ পার্সেন্ট নিয়ে আসতে হবে শিং মাছ ছোট অবস্থায় রাতে খাবার খায় তাই খাবার দুই ভাগ করে ভোরবেলা এবং সন্ধ্যায় দিতে হবে শিং মাছ তিন ইঞ্চির বড় হলে দিনের আলোতে খাবার দেয়া যায়

শিং মাছের স্বাস্থ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা

শিং মাছের সফল চাষের জন্য নিয়মিত পানি পরিবর্তন করতে হবে পানির গুণগত মান বজায় রাখার জন্য নিয়মিত পানি পরিবর্তন করা আবশ্যক শীতকালে মাছ খেয়ে রোগ মুক্ত রাখছে প্রতি 15 দিন পর পর পুকুরের পানি পরিবর্তন করতে হবে

পানি পরিবেশ ভালো রাখতে প্রতি শতকে আড়াইশো গ্রাম চুন এবং সমপরিমাণ লবণ প্রয়োগ করা যেতে পারে পানির পরিবেশ ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজার থেকে জিও লাইট বা অনুজীব নাশক কিনে ব্যবহার করা যেতে পারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে সঠিক মাত্রায় চুন লবণ প্রয়োগ এবং রোগের লক্ষণ দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী

মাছের গায়ে লাল দাগ বা ক্ষত দেখা দিলে প্রতি শতকে ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম চুন ও লবণ প্রয়োগ করতে হবে এছাড়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী তিন থেকে চারদিন সিপ্রোক্সাসিন প্রতি শতকে পাঁচ থেকে সাত গ্রাম ব্যবহার করা যেতে পারে শীতকালে শিং মাছের গায়ে ছত্রাক সংক্রমণ করলে প্রতি মাসে অন্তত একবার এন্টিফাঙ্গাল মেডিসিন ব্যবহার করা ভালো

মাছ যদি খাবার কম খায় এছাড়াও শরীরের রং ফ্যাকাশে বা কালসে হয়ে যায় তখন মাছ অসুস্থ এটা বুঝে নিতে হবে এবং এবং তখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে শিং মাছ বৈশাখ থেকে শ্রাবণ এপ্রিল থেকে আগস্ট মজুদের জন্য উপযুক্ত সময় পুকুরে শিং মাছ ছাড়ার আগে পুকুর শুকিয়ে চলার বিষাক্ত গ্যাস দূর করে চুন প্রয়োগ করা জরুরী

শিং মাছ চাষ করে লাখপতি বাংলার যুবক

আধুনিক পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষ করে বর্তমানে বাংলার অনেক যুবকে সফলতা অর্জন করেছেন।ময়মনসিংহের ত্রিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিং মাছ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তণ এসেছে। যেখানে মাত্র 32 শতাংশ পুকুর থেকে মাত্র পাঁচ মাসে খরচ বাদে 11 লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করার নজির দেখা গিয়েছে।


নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করে খুব সহজে অল্প জায়গায় অধিক উৎপাদন করা যায়। ছোট পুকুর বা ট্যাঙ্কে অনেক বেশি ঘনত্বের পোনা ছাড়া যায়।সাধারণ চাষের তুলনায় এখানে উৎপাদন অনেক বেশি হয়। শিং মাছ খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা অনেক রয়েছে অন্যান্য কার জাতীয় মাছের তুলনায় প্রতি কেজি মাছের দাম অনেক বেশি হওয়ায় এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা।

শিং মাছের রক্ত বাড়ায় এবং পুষ্টিগুণ অনেক বেশি থাকায় বাজারে এর দাম সবসময় ভালো থাকে যে কারণে শিং মাছ ব্যবসায়ীরা খুব সহজেই অধিক লাভবান হতে পারে। নিবিড় চাষ করে দ্রুত বড় হওয়ায় এটি মূলত স্ত্রী পোনা মজুদ করা হয় ।সাপের হাত থেকে রক্ষা করতে পুকুরে চারপাশে জাল দেওয়া হয়।

শিং মাছ চাষ করার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ

শিং মাছ চাষ করে যারা যারা সফল হয়েছেন তারা কয়েকটি বিষয়ের উপরে জোর দেন প্রথমত নিবিড় চাষে দ্রুত অধিক উৎপাদন করার জন্য মূলত স্ত্রী পোনা মজুদ করা হয়।শিং মাছ চাষ করার ক্ষেত্রে নিয়মিত পানি পরিবর্তন করতে হয়। প্রতি সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন পুকুরের পুরানো পানি বের করে দিয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হয় ।

আরও পড়ুন:প্রতি সপ্তাহে ৩-৪ দিন পানি পরিবর্তন করতে হয়

মাছ চাষ করার ক্ষেত্রে খাবার ব্যবস্থাপনা অতি গুরুত্বপূর্ণ শিং মাছ প্রোটিন সমৃদ্ধ ভালো মানের বাণিজ্যিক ফিড বা ফিশ মিল খাবার খায় তাই এসব খাবার নিয়মিত প্রয়োগ করা জরুরী ক্ষতিকর প্রাণী বা ব্যাংক বা সাপের হাত থেকে রক্ষা করতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কুকুরের চারপাশে জাল দিয়ে বেষ্টনী দেওয়া হয়

উন্নত জাতের হাইব্রিড শিং মাছ চাষ

উন্নত জাতের হাইব্রিড শিং মাছের চাষ অত্যন্ত লাভজনক ।বাংলার অনেক যুবকে উন্নত জাতের শিং মাছ চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছে। সাধারণত ১০ থেকে ৩০ শতাংশের পুকুরে বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাসে সুস্থ পোনা ছেড়ে উচ্চ-ঘনত্বের শতক প্রতি 800 থেকে 1000 টি শিং মাছ চাষ করা যায়।নিয়মিত ভাসমান খাবার সরবরাহ এবং প্রতি মাসে পানি পরিবর্তনের মাধ্যমে বিঘায় প্রচুর লাভ করা যায়।

উন্নত জাতের হাইব্রিড মাছ চাষ করতে হলে প্রথমে পুকুর প্রস্তুতি নিতে হবে।পুকুরের পাড় মজবুত হতে হবে যেন বন্যায় পানিতে শিং মাছ ভেসে না যায়। পুকুর থেকে রাক্ষুসে মাছ দূর করতে হবে প্রতি শতাংশে এক কেজি চুন এবং পুকুর প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সার ব্যবহার করতে হবে।

শিং মাছের জন্য সাধারণত ২০ থেকে ৩০% প্রোটিন সমৃদ্ধ ভাসমান খাবার বা ফিড মিল ব্যবহার করতে হবে তিন থেকে পাঁচ পার্সেন্ট হারে দুইবার খাবার দিতে হবে পুকুরের পানি সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে পানি অতিরিক্ত ময়লা হলে পানি পরিবর্তন করতে হবে কুকুরের আশেপাশে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে কচুরিপানা রাখলেও খুব বেশি কচুরিপানা রাখা যাবে না।

শীতের মৌসুমে শিং মাছ চাষ

শীতকালে শিং মাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং রোগ বালাইয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শীতকালে সফলভাবে শিং মাছ চাষ করার জন্য পুকুরের পানি দুই ফুট উচ্চতায় রাখতে হবে প্রতি 15 দিন পর পর পানি পরিবর্তন করতে হবে এবং মাসে একবার চুন বা অ্যান্টিফাঙ্গাল মেডিসিন ব্যবহার করা জরুরী শীতকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।তাই পানি উন্নয়ন ও নিয়মিত বাজারজাত করতে চাইলে বড় মাছ তুলে ফেলতে হবে।


শীতকালে পুকুরের পানির গভীরতা দুই থেকে তিন ফুট রাখা উচিত যাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা যায় এবং পানির দ্রুত গরম হয় 15 দিন পর পর অন্তত 30% পানি পরিবর্তন করতে হবে। তাহলে মাছ সুস্থ থাকবে।শীতকালে শিং মাছ চাষ করতে হলে অবশ্যইএমোনিয়া ও রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এজন্য পুকুরের তলায় গ্যাস বা এমোনিয়া গ্যাস হলে বা উপযুক্ত চুন প্রতি শতাংশে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ব্যবহার করতে হবে

শিং মাছের রোগবালাই থেকে রক্ষার জন্য প্রতি মাসে একবার এন্টিফাঙ্গাল বা অ্যান্টিবায়োটিক মেডিসিন ব্যবহার করা যেতে পারে।শীতকালে পানির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে নামলে শিং মাছের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।শিং মাছের খাদ্য গ্রহণ কমে যায় তাই খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে এবং বেশি কুয়াশা থাকলে খাবার দেওয়া বন্ধ রাখা ভালো।


শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা করার জন্য বেশি শীতে পুকুরের পানি উঠছে পড়া রোধ করতে এবং তাপমাত্রা সঠিক মাত্রায় ধরে রাখতে পুকুরের পাড় মজবুত রাখা প্রয়োজন। মাথার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত ভিটামিন সি মেশানো খাবার দেওয়া যেতে পারে। শীতের আগেই বড় শিং মাছ বাজারে বিক্রি করা উত্তম যদি শীতকালে মাছ রাখেন তবে অতিরিক্ত ঘনত তে না রেখে মাত্র সংখ্যা কমিয়ে ফেলা ভালো।

শিং মাছ বাজারজাতকরণ

বেশি শিং মাছ পাট থেকে ছয় মাসে 40 থেকে 60 গ্রাম ওজন বিক্রির উপযোগী হয়। শিং মাছ জীবন্ত বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ দাম পাওয়া যায়।সুস্থ সবল রোগমুক্ত শিং মাছ মাটির পাত্রে বা গ্রামে করে উপরে ডালপালা দিয়ে পানি ছিটিয়ে দ্রুত বাজারজাতকরণ করা প্রয়োজন।পুকুর সেচে ভোরের দিকে জাল দিয়ে শিং মাছ আরো আহরণ করা হয়।

সাধারণত শিং মাছের পোনা ছাড়া আর পাঁচ থেকে ছয় মাস পর শিং মাছ বিক্রির জন্য উপযুক্ত হয়।ডাল টেনে ধরা যদি কঠিন মনে হয় তাহলে পুকুরে সেচ দিয়ে বা জাল দিয়ে ভরে মাছ আহরণ করা সবচেয়ে ভালো। শিং মাছ বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে পারে বলে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকে।মানুষ জীবন্ত শিং মাছ খেতে বেশি পছন্দ করে তাই এটি বাজারজাতকরণের অন্যতম প্রধান সুবিধা।


শিং মাছ চাষ করার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে হলে বেশি শিং মাছ চাষের সঠিক সময়কাল ও লাভজনক পদ্ধতি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ শিং মাছ চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করে উচ্চফলন নিশ্চিত করা যায় শিং মাছ ধরার পরে তাদের অবস্থায় ড্রাম বা বাঁশের ঝুড়িতে করে স্থানীয় পাইকারি বাজার বা ভারতে পাঠাতে হয়।

শিং মাছের আধুনিক পদ্ধতির ও সেই মাথার নিবিড় চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করে শিং মাছের উচ্চফলন নিশ্চিত করা যায়। তাই শিং মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা এবং সেই মাছ চাষ পদ্ধতি সঠিকভাবে মেনে চলা অতি গুরুত্বপূর্ণ বাজার মূল্য অন্যান্য মাছের তুলনায় অনেক বেশি। তাই শিং মাছ ব্যবসায়ীরা শিং মাছ বাজারজাতকরণ করে অধিক লাভবান হতে পারে।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সলুশনস আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url