আমাদের শরীর সুস্থ রাখার ১০ টি টিপস

 আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে বিভিন্ন নিয়ম কানুন মেনে চলা উচিত।আমাদের শরীর সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।


শরীর-সুস্থ-রাখার-টিপস

আমাদের সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।ফলমূল শাকসবজি খাওয়ার শরীরের জন্য অত্যন্ত ভালো।

পেজ সূচিপত্র 



শরীর সুস্থ রাখার টিপস সম্পর্কে আলোচনা 

শরীর সুস্থ রাখার জন্য ভাত রুটি আলু ভুট্টা ইত্যাদি শর্করা জাতীয় খাবার শরীরের জন্য বেশ ভালো।মাছ মাংস ডিম ডাল দুধ ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে আমাদের শরীরের গঠন এবং ক্ষয় পূরণ হয়।স্নেহ জাতীয় পদার্থ যেমনঃতেল ঘি বাদাম ইত্যাদি খাদ্য গ্রহণ করলে আমাদের শরীরের শক্তি সঞ্চয় হবে।বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার পাওয়া যায় অতিরিক্ত মিষ্টি এবং চর্বিযুক্ত খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর।


আমাদের শরীরের জন্য দুধ গুরুত্বপূর্ণ,দুগ্ধজাত দ্রব্যে ক্যালসিয়াম আছে তাই দুধ,দই বা পনির খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য বেশ ভালো।আমাদের বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক সুষম খাদ্যের তালিকা প্রস্তুত করা উচিত।আমরা যদি প্রতিদিন বিভিন্ন রঙের তাজা ফল ও প্রচুর শরীরের জন্য যথেষ্ট ভালো।দুগ্ধজাত দ্রব্য পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় এবং ডায়াবেটিসের জন্য বেশ ভালো।


আমাদের পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত

পানি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ;তাই আমাদের পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।পানি আমাদের শরীরে তাপমাত্রা ঠিক রাখে এবং পানি খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে।আমাদের শরীরের মধ্যে যেসব তথ্য জমে থাকে সেগুলো দূর করতে পানির সাহায্য করে।আমরা যদি পর্যাপ্ত পানি পান না করি তাহলে আমাদের হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।


যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তাই আমাদের শরীরে হাইড্রেটেড রাখতে পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আমাদের প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ২ লিটার-৩ লিটার পানি পান করা উচিত।পানি খাবার খাদ্যনালী থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত নিয়ে যায়।পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।


আমাদের নিয়মিত হাটা ও ব্যায়াম করতে হবে 

আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত হাটা ও ব্যায়াম করা অত্যন্ত কার্যকর।আমাদের প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটা চর্চা করা উচিত। যাদের শরীরের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য হাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ হাটা বা ব্যায়াম করলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়।আমাদের নিয়মিত হাটা অভ্যাস গড়ে তুললে তা মেদ কমাতে এবং ভালো ঘুমের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর।


আমাদের সমাজে অনেকেই আছে যাদের শরীরের ওজন অনেকটা বেশি।তারা যদি নিয়মিত ব্যায়াম করে তাহলে তাদের অতিরিক্ত চর্বি বা মেয়ের দূর করা সম্ভব হবে।তবে খেয়াল রাখতে হবে যে খাওয়ার পরপরই দৌড়াদৌড়ি বা জোরে জোরে হাটাহাটি করা যাবে না।খাওয়ার পরে হালকা হাটা চলা করা যাবে।ডায়াবেটিস রোগী দের ক্ষেত্রে সকাল ও সন্ধ্যা দুই বেলা হাটা ভালো।


আমাদের পর্যাপ্ত ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে 

আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে কারণ আমাদের সুস্বাস্থ্য ও মানসিক প্রশান্ত প্রশান্তির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আমাদের অন্ততপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা পর্যাপ্ত ঘুমানো উচিত।প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার মাধ্যমে একটি সঠিক রুটিন তৈরি করে নিতে হবে।বাইরের খাবার তেল ও মসলাযুক্ত খাবার ভারী খাবার এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এগুলো ঘুমের বাধার সৃষ্টি করতে পারে।


শরীর-সুস্থ-রাখার-টিপস


ঘুমানোর আগে শরীরও মনকে শান্ত করা উচিত যা আমাদের ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।তাই ঘুমানোর আগে হালকা খাবার গ্রহণ বা বই পড়লে তার শরীরে মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।আমাদের শরীরে ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পর্যন্ত প্রায় এর ক্ষতিকর প্রভাব থাকে।তাই রাতে ঘুমের আগে চা বা কফি পান বা  রাতে অতিরিক্ত ভারী খাবার বা তেল মশলাযুক্ত খাবার খেলে আমাদের ঘুমের অসুবিধা হতে পারে।


আমাদের চিনি ও জাঙ্কফুড বর্জন করতে হবে 

আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।অনেকেই দেখা যায় যে তিনি দিয়ে চা কফি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন তাদেরঅভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।মিষ্টি জাতীয় বা কোমল পানীয় আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত খারাপ।কোমল পানীয় স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল করে ফেলে এবং শরীরে বেশি চিনির উপস্থিতি দেখা দিলে অকালে ডায়াবেটিসের মতো অসুখ দেখা যেতে পারে।


বাইরের কেমিক্যালযুক্ত মিষ্টি খাওয়ার চেয়ে প্রাকৃতিক তাজা ফলের রস ডাবের পানি এগুলোতে যে চিনি আছে এগুলো আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর না।তাই এগুলো খাওয়া যেতে পারে।প্রাকৃতিক ফলমূল ও অতিরিক্ত গ্রহণ করলে তার শরীরের জন্য হুমকি স্বরূপ হতে পারে।খাবার খাওয়া উচিত না অতিরিক্ত চিনি বাট যুক্ত খাবার শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর।


আমাদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে 

আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার অত্যন্ত জরুরী।অতিরিক্ত মানসিক চাপ আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত করে।মানসিক চাপ কমানোর জন্য বেশ কিছু ব্যায়াম রয়েছে।তার মধ্যে অন্যতম হলো লম্বা ও গভীর শ্বাস নেওয়া গভীর শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়লে এটা হার্টের জন্য অত্যন্ত ভালো যা মানুষের চাপ কমাতে সাহায্য করে।


আমাদের বন্ধু বান্ধবী পরিবার ও প্রিয়জনের সাথে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।নিজের বিভিন্ন সমস্যা ও অনুভূতিগুলো শেয়ার করলে আমাদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।আমাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে কারণ বই পড়লে বই পড়ার দিকে মনোযোগী হলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।এছাড়াও গান শোনা,ছবি আঁকা বা বাগান করাও যেতে পারে।


ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করতে হবে 

আমাদের শরীরের জন্য ধূমপান ও অ্যালকোহল অত্যন্ত ক্ষতিকর।ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ এবং এটি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।তাই ধূমপানও অ্যালকোহলের ইচ্ছা পুরাপুরি ত্যাগ করতে হবে এবং যারা ধূমপান অ্যালকোহল গ্রহণ করে তাদের সঙ্গ এড়িয়ে যেতে হবে।কারো জন্য পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া কঠিন হলে সে আস্তে আস্তে কমিয়ে দিতে পারে এবং চেষ্টা করুন একেবারে পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার।


কারো ধুম-পানো অ্যালকোহল গ্রহনের ইচ্ছা জাগলে বই পড়া বাগান করা ছবি আঁকা ইত্যাদি কাজে মন দিতে পারেন  এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।নিয়মিত ব্যায়াম করা শরীরের জন্য বেশ ভালো।তাই থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন যা আপনাকে ক্লান্তি দূর করতে করবে।অদম্য ইচ্ছা শক্তি এবং কিছু কৌশল মেনে চললেই আপনি ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।


আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত 

শরীর সুস্থ রাখার একটি উপায় হল আমাদের শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।অতিরিক্ত ওজন আমাদের শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলে এবং বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে।অতিরিক্ত ওজন যার ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগের সম্মুখীন হতে হতে পারে এবং আপনার শরীরের আদর্শ ওজন জেনে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।শরীরের অতিরিক্ত ওজন আর্থ্রাইটিস সৃষ্টি করে।


অতিরিক্ত ওজন হাঁটু ও কোমরে ব্যথা দেখা দিতে পারে;শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে আমাদের শরীর সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি।অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ ও বিভিন্ন প্রাণঘাতী মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করতে পারে।শরীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে হাট ও জয়েন্ট এর সুরক্ষা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।ভাত রুটি এসব খাবার কমিয়ে শাক-সবজি ফলমূল ইত্যাদি খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।


শরীর সুস্থ রাখতে স্ক্রিন টাইম কমানো উচিত 

ডিজিটাল ডিভাইসে স্ক্রিন টাইম কমানো আমাদের শরীরের জন্য উপকারী।স্কিন টাইম বৃদ্ধি পেলে তা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।আমাদের খাবার টেবিল ও বেডরুমকে স্ত্রীর মুক্ত রাখা উচিত।মোবাইলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ থেকে যে নোটিফিকেশন আসে তা বন্ধ রাখতে হবে কারণ বেশি নোটিফিকেশন আসলে মোবাইল ফোনের দিকে বেশি আকৃষ্ট হলে তা শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

শরীর-সুস্থ-রাখার-টিপস


মোবাইলে সোশ্যাল মিডিয়া,গেম,নাটক ইত্যাদির দৈনিক সময় নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত যাতে সময় বেড়ে না যে স্কিন টাইম বেড়ে না যায়।শেষ হলে অ্যাপ লক হয়ে যাবে এরকম সিস্টেম চালু করে রাখা উচিত।একটানা মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার না ব্যবহার করে বিশ মিনিট পর পর স্ক্রিন টাইম থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরের কোন কিছুর দিকে তাকান।কয়েক মিনিট বিরতির পর মোবাইল ব্যবহার করা ভালো।

শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ভালো।নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে বিভিন্ন ধরনের রোগ শনাক্ত করা সম্ভব যেমন ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের সমস্যা প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা যায়।এতে বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক রোগের প্রতিরোধ করা  যায় এবং সুস্থ জীবন যাপনে করা যায়।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে প্রতিবছরে একবার অন্তত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।


উচ্চ রক্তচাপ আছে কিনা তা স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্র দিয়ে মাপা যায়।আমাদের শরীরের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ এর মধ্যে থাকা ভালো।ব্লাড সুগার পরীক্ষা করার মাধ্যমে ডায়াবেটিস চেক করা যায়। ব্লাড সুগার সাত এর উপরে হলে ডায়াবেটিস আছে বলে ধরা হয় এবং রক্তে কোলেস্টেরলএর মাত্রা যাচাই করার জন্য লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করে হার্টের রোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

পরিশেষেঃ

আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে ফাইবার ও আন্টি অক্সিডেন্ট জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।যেমন পালং শাক ব্রকলি বাঁধাকপি ইত্যাদি সবুজ শাকসবজি খেতে হবে মৌসুমী ফল যেমন পেয়ারা আপেল ইত্যাদি ফলমূল গ্রহণ করতে হবে।আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা শরীরের জন্য বেশ ভালো।নিয়মিত হাটা ও ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।কাঠ বাদাম চিনা বাদাম ইত্যাদি বীজের জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।


একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের অন্ততপক্ষে প্রতিদিন ৩ লিটার পানি খাওয়া উচিত।সকালে কুসুম গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে পান করলে তার শরীরের জন্য ভালো।নিরামিষ জাতীয় খাবারের মধ্যে ডাল ছোলা সয়াবিন দুধ দই থানা ইত্যাদি প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।যেকোনো শাকসবজি ফলমূল ভালো করে ধুয়ে তারপরে গ্রহণ করবেন বেশি তেল মশলা দিয়ে রান্না করা যাবে না।






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সলুশনস আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url